সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৪

গাজীপুরের হাইটেক পার্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, আইসিটি শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করাই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।
“এটি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হবে, তবে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হওয়াতে কিছু অতিরিক্ত বিষয় এ আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।”
মন্ত্রিপরিষদ আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিলেও কিছু অনুশাসন ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
“নামের ব্যাপারে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয় করা, এর জন্য কিছু পদ্ধতি রয়েছে এজন্য বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের অনুমতি লাগে, এ বিষয়টি আইন চূড়ান্ত করার সময় ঠিক করা হবে,” বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ আকর্ষণীয় হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
“দেশে ও বিদেশে আইসিটি ক্ষেত্রে অসাধারণ মেধাবী ও যোগ্য লোকদের আকৃষ্ট করার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয় যারা শিক্ষক হবেন তাদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা দেওয়ার বিধান থাকবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পযায়ে গুরুত্বপূর্ণ লোককে নিয়ে আসতে পারব।”
তিনি জানান, এখানে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি দূরশিক্ষণ ও অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় একাডেমিক কাউন্সিলে আইসিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থাকবেন।
“একাডেমিক কাউন্সিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মনোনীত দুজন আইসিটি শিল্প উদ্যোক্তা থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা উন্নয়ন কমিটিতে পরিকল্পনা বিভাগের একজন প্রতিনিধি থাকবে, যাতে তারা প্রকল্পগুলো ঠিকঠাক নিতে পারে।”
খুব শিগগিরই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৪

ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা সম্মেলন – ২০১৪

দেশব্যাপী ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষির্কীতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা সম্মেলন – ২০১৪ । জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এ সম্মেলনে দেশের ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের ১১ হাজারেরও বেশি ডিজিটাল উদ্যোক্তা অংশ নিচ্ছেন।
ইতিমধ্যে এ আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে জানিয়ে রোববার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেশব্যাপী স্থাপিত ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যেক্তাদের নিয়ে এ সম্মেলন এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আয়োজন। আমরা এ সম্মেলনে ডিজিটাল বাংলাদেশের তৃণমূল সৈনিকদের সম্মানিত করবো। এসময় অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের পরিচালক কবির বিন আনোয়ার এবং এটুআইয়ের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাইমুজ্জামান মুক্তা উপস্থিত ছিলেন।
এ উদ্যোক্তা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সকল অংশীদারদের অনুপ্রেরণা যোগাবে উল্লেখ করে পলক বলেন, সম্মেলনে উদ্যোক্তারা প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের মূল্যবান দিকনির্দেশনাও পাবেন।
সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে এখন ৪ হাজার ৫৪৭টি ইউনিয়ন, ৩২১টি পৌরসভা ও ১১ সিটি কর্পোরেশনের ৪০৭টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার রয়েছে।এসব কেন্দ্র থেকে ৬০ ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবা দেয়া হয়ে থাকে।
একমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দিয়ে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়া কঠিন উল্লেখ করে পলক বলেন, এজন্য আমাদের বহুমুখী উদ্যোগ ও ব্যবসা করতে হবে।
সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের দূত, কূটনীতিক ও ডিজিটাল সেন্টারের অংশীদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। চার বছর আগে চালু হওয়া ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রগুলোকে এখন ডিজিটাল সেন্টার নামে অভিহিত করা হচ্ছে। আর এই ডিজিটাল সেন্টারের ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণই এ সম্মেলনের মূল বিষয়।

শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৪

থ্রিজি নেটওয়ার্ক এলাকা থেকে ১৫/২০ কি.মি.দুরেও শক্তিশালী থ্রিজি নেটওয়ার্ক

মোবাইল কোম্পানী গুলো ইতিমধ্য প্রচার শুরু করেছে ৬৪ জেলা থ্রিজি নেটওয়ার্ক এর আওতায় এনেছে, কিন্তু আপনি যখন গ্রাম থেকে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে চাইছেন থ্রিজি নেটওয়ার্ক তো দুরের কথা ২জি নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন না, আবার যারা জেলা শহরের আশেপাশে থাকে তারা হয়তো দুর্বল নেটওয়ার্কের কারনে থ্রিজি বা ২জি কোনটাই ব্যবহার করতে পারছেন না, আজ আমি আপনাদের দেখাবো আপনি যদি থ্রিজি নেটওয়ার্ক এলাকা থেকে ১৫/২০ কিলোমিটার দুরেও থাকেন কিভাবে শক্তিশালী থ্রিজি নেটওয়ার্ক পেতে পারেন ।
Improve 3G Singalআসুন দেখে নেয়া যাক এজন্য কি কি লাগবেঃ
১, গোলাকৃতির অ্যালুমিনিয়ামের ৩০০ মিঃমিঃ একটি বাটি/ছাকনি বা অন্যকিছু । 
২, থ্রিজি সাপোর্ট করে এমন একটি ইউএসবি মডেম
৩, লম্বা ইউএসবি ক্যাবল (কম্পিউটারের দোকানে পাবেন)
৪, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল
৫, একটি সার্কিট ডায়াগ্রাম ( DC 12V, 1/2W SMPS বা নিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ সাপ্লাই বা ব্যাটারি আপনার ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারেন ।
mini 3g satiliteএবার আপনাকে যা করতে হবে গোলাকৃতিরঅ্যালুমিনিয়ামের বস্তুটির ঠিক মাঝ খানে মডেমের ইউএসবির মাপে ছিদ্র করুন, তারপর উপরের অংশ দিয়ে ছিদ্রের মধ্যে আপনার মডেম ঢুকান ও নিচের প্রান্তে থেকে ইউএসবি ক্যাবল সংযুক্ত করে , আপনার বাসার ছাদে বা খোলা জায়গার উচুস্থানে আপনার তৈরি এন্টেনা স্থাপন করে দিন , ইউএসবি ক্যাবলের অপর অংশ আপনার পিসি বা ল্যাপটপের সাথে সংযুক্ত করুন ।
আপনার সিম থ্রিজি একটিভ করা না থাকলে করে নিন এবং যেকোন একটি থ্রিজি প্যাকেজ চালু করে নিবেন ।
3g
অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি জিনিসপত্র পরিমাপের পাল্লা দিয়ে তৈরি অ্যান্টেনা।
এবার দেখাবো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারের কাজ কি ?
উপরোক্ত পদ্ধতিতে যদি আপনার এলাকায় থ্রিজির নেটওয়ার্ক না আসে তবে , অ্যালুমিনিয়ামের যে বাটি/ছাকনি নিয়েছিলেন তা নিচের মত করে পেছিয়ে নিন
Aluminum FoilAluminium Bowl
অথবা নিচের চিত্রের মত একটি সার্কিট আপনার মডেমের সাথে স্ক্রু দিয়ে লাগিয়ে দিন । (সার্কিট ডায়াগ্রামের সম্পূর্ণ বিষয় চিত্রের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে)
থ্রিজি সার্কিট
আশা করি এবার আপনার আর কোন সমস্যা নেই তবে নেটওয়ার্ক আপনার এলাকার ১৫/২০ কিলোমিটার এর বেশি দুরে থেকে থাকে তবে আপনার চেষ্টা না করাই ভাল ।
আপনি চাইলে আপনার তৈরি এন্টেনা আরো স্টাইলিশ করে নিতে পারেন নিচের ছবির মত করে ।
ms6সিস্টেম বিষয়ে কোন মতামত থাকলে কমেন্টস করুন ও আপনার কাজে লাগলে পোস্টটি শেয়ার করে অন্যকে পরার সুযোগ দিন ,
আরও জানতে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান বা উনার সহযোগিতানিন
ধন্যবাদ
নিজে জানুন, অন্যকে জানান

শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৪

‘তথ্য-প্রযুক্তি’ -আধুনিক বিশ্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ‘২০২১:

‘তথ্য-প্রযুক্তি’ -আধুনিক বিশ্বে এই শব্দটির প্রয়োগ সর্বক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে। ‘তথ্য-প্রযুক্তি’ পরিণত হয়েছে একটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর মেরুদণ্ড হিসেবে। বাংলাদেশে এর ব্যবহারও ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছে। তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে। সরকার দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসার ও বিকাশের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং দেশের আপামর জনগণকে এই প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করে ২০২১ সালের মধ্যে ‘তথ্য-প্রযুক্তি’ -আধুনিক বিশ্বে করার জন্যে বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর। ‘রূপকল্প ২০২১: ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে বর্তমান সরকার কর্তৃক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
ইউনিকোডভিত্তিক নতুন ফন্টঃ
একুশের (২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে) প্রথম প্রহরে শহীদ মিনার প্রান্তরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনিকোড ভিত্তিক প্রমিত বাংলা ফন্ট ‘আমার বর্ণমালা’ -এর প্রথম ফন্ট ‘শাপলা’ উদ্বোধন করেছেন। ফন্ট তৈরিতে কাজ করছে বাংলা একাডেমী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিকস ডিজাইন বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম। কম্পিউটার টাইপিং –এ ব্যবহারের জন্য, বাংলা একাডেমীর তত্ত্বাবধানে বানানো এটাই হচ্ছে প্রথম ফন্ট। এ ফন্টে ইউনিকোড সুবিধার সঙ্গে প্রমিত বাংলা, যুক্তবর্ণের সহজীকরণ ও এর রূপ নির্দিষ্ট করণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এই ফন্টটি সবার জন্য উন্মুক্ত (www.amarbornomala.gov.bd -এই ওয়েবসাইট থেকে ডউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে)। তবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এর বিতরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইনোভেশন ফান্ডঃ
রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে সৃজনশীল প্রচেষ্টাকে সহায়তা দিতে যাত্রা শুরু করেছে ‘ইনোভেশন ফান্ড’। গত ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এই ফান্ডের উদ্বোধন করেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ‘একসেস টু ইনফরমেশন (ওটুআই)’ প্রকল্পের আওতায় এতে সহায়তা দিচ্ছে সরকার, ইউএনডিপি এবং একশন এইড। সেবামূলক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্যবান্ধব সেবা প্রদান ব্যবস্থা, সেবা বিকেন্দ্রীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, স্বল্পমূল্যের প্রযুক্তি, তথ্যে প্রবেশাধিকার, বাংলা ভাষা সহায়ক সফটওয়্যার ইত্যাদি। এ অর্থায়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম হবে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা প্রথম এবং পূর্ণাঙ্গ সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকাঃ
বাংলা নববর্ষের (১৪২০) ঠিক আগের রাত ১৩ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো পৃথিবীর প্রথম এবং পূর্ণাঙ্গ বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ এবং জিপি আইটি লিমিটেড যৌথভাবে তৈরি করেছে এই বাংলা সার্চ ইঞ্জিন। এটা প্রথমে শুরু হয়েছিলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি প্রজেক্ট হিসাবে। প্রত্যেক বছরের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের একটা প্রজেক্ট করে জমা দিতে হয়। সেই রকম একটা প্রজেক্ট ছিলো পিপীলিকা। সেই প্রজেক্ট যখন শুরু হলো তখন তারাই প্রজেক্টটির নাম দিয়েছিলো পিপীলিকা। পিপীলিকা যেমন সব জায়গা থেকে ঘুরে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করে রাখে, তেমনি সার্চ ইঞ্জিনের ভিতরে সব তথ্য খুঁজে খুঁজে রেখে দেওয়া হবে সেই ধারনা থেকে এর নাম। এটি পূর্ণাঙ্গ সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে ২০ কোটির বেশি মানুষকে বাংলা তথ্য খোঁজায় সহায়তা করবে। পিপীলিকায় বাংলায় তথ্য অনুসন্ধানের জন্য নিজস্ব বাংলা অভিধান ব্যবহার করা হয়েছে। যদি ব্যবহারকারী কোনো শব্দের ভুল বানানও দেন, পিপীলিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক বানান খুঁজে নিয়ে সেই নতুন শব্দ দিয়ে অনুসন্ধান চালাবে, ফলাফল দেবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেবে তাঁর কোন শব্দের বানান ভুল ছিল, সঠিক কোন শব্দ দিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। সংবাদ অনুসন্ধান, ব্লগ অনুসন্ধান, বাংলা উইকিপিডিয়া অনুসন্ধান ও জাতীয় ই-তথ্যকোষসহ আরও অনেক কিছু থাকছে পিপীলিকায়।
দেশে সফটওয়্যার খাতে ১০ কোটি ডলার আয়ঃ
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) উদ্যোগে একটি বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে (৩১/০৮/২০১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত) জানানো হয়, এবারই প্রথম আইসিটি খাতে রপ্তানি আয় ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে সফটওয়্যার ও আইসিটি খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৫০ ভাগ। এ প্রবৃদ্ধি রপ্তানিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১০টি খাতের অন্যতম। দেশের সফটওয়্যার ও আইসিটি খাতে রপ্তানি আয় ১০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০১.৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বিগত বছরের তুলনায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৪৩.৫৩ ভাগ। দেশের আইসিটি খাতে এটি যুগান্তকারী অর্জন। আইসিটিতে রপ্তানির এ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে এবং সম্মিলিত উদ্যোগ আর পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে আগামী ২০২১ সাল নাগাদ এ খাতে ১০০ কোটি ডলার আয় করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তৃতীয় প্রজন্মের নেটওয়ার্ক বা ৩জিঃ
৩জি (ইংরেজি: 3G) হল থার্ড জেনারেশন বা তৃতীয় প্রজন্ম-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি হল তৃতীয় প্রজন্মের তারবিহীন নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি। ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ -বহুল প্রত্যাশিত ৩জি সেবা চালু করার লক্ষ্যে অবশেষে দেশের বেসরকারী অপারেটরগুলো ৩জি'র লাইসেন্স পেয়েছে। ফলে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর থ্রিজি সেবা দিতে পারবে। তারা হল- গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল। সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটক এই সেবা দিয়ে আসছে প্রায় এক বছর আগে থেকে। আর দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর সিটিসেল এই নিলামে অংশগ্রহণ করেনি। নিলামে অংশ নিয়ে অপারেটর চারটি থ্রিজির জন্য সরকারের কাছ থেকে তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়েছে। থ্রিজি প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় সুবিধা হলো, এই প্রযুক্তি কার্যকর থাকলে মোবাইল হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে ভয়েস সুবিধার পাশাপাশি ব্যবহারকারী উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া টিভি দেখা, খেলা দেখা, ভিডিও ক্লিপস আদান-প্রদান, ভিডিও কনফারেন্স সবই সম্ভব। থ্রিজি বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের একমাত্র সমাধান। গণ ব্রডব্যান্ড ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন অবান্তর। কেননা ডিজিটাল বাংলাদেশে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের পরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট হবে জনগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার। মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়া অন্য কোনো নেটওয়ার্কে যে কোনো লোকেশনে ব্রডব্যান্ড দেয়া প্রায় অসম্ভব। বর্তমান সময়ে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের জন্য পৃথিবীতে সাধারণত তিন ধরনের নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে—১. ফাইবার অপটিক ক্যাবল; ২. ওয়াইম্যাক্স ও ৩. থ্রিজি মোবাইল নেটওয়ার্ক।